1. admin@nirjatitonewsbd.com : admin :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৭ অপরাহ্ন

ধনাঢ্য বানিয়েছে মুনিয়া বোন ভগ্নিপতিকে

  • সময় : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৩৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি : পোশাক বদলের মতোই একের পর এক প্রেমিক বদলে মুনিয়া হয়েছে অভিজাত, বোন ভগ্নিপতিকে বানিয়েছে ধনাঢ্য। পিয়াসা সিন্ডিকেটের সদস্য মোসারাত জাহান মুনিয়া হয়ে উঠছিলেন আরেক পাপিয়া? তার একটার পর একটা প্রেম আর একের পর এক হাত বদলের মাধ্যমে নিজের আখের গোছানোর ঘটনায় এমন প্রশ্নই উঠে এসেছে জনমনে। পোশাক পাল্টানোর মতো একটার পর একটা প্রেমিক পাল্টানোর মাধ্যমে মুনিয়া যেমন আভিজাত্যের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন তেমনি নিজের বোন ভগ্নিপতিকেও ধনাঢ্য করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাবা মা মৃত্যুর পর এই বোন ভগ্নিপতিই ছিল তার একমাত্র অভিভাবক। কিন্তু দুহাতে অঢেল টাকা কামানোর ধান্ধায় মুনিয়ার জীবন কোথায় পৌঁছে যাচ্ছে সে খবর নেয়ার কোনো দরকারই তারা মনে করেননি। বরং ছোট বোনকে যথেচ্ছা চলাচল, যার সঙ্গে খুশি দিন রাত যাপনের অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে বোন ভগ্নিপতি হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ৫০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে কথিত অডিও রেকর্ডে, এ টাকাও মুনিয়ার হাত ঘুরে তার বোন ভগ্নিপতির ঘরে পৌঁছেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয় মুনিয়া। কুমিল্লার একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া। তার পুরো পরিবার কুমিল্লায় থাকলেও ২০১৭ সাল থেকেই ঢাকায় একাকী থাকছেন তিনি। এসএসসি পাশের পর থেকেই মুনিয়ার স্বপ্ন ছিল সিনেমায় কাজ করার। এক প্রযোজকের হাত ধরে পরিচয় হয়েছিল ঢাকাই সিনেমার এক নায়কের সঙ্গে। তার সঙ্গে অল্প কিছুদিন লিভ টু গেদারের পর তার আকাশ কুসুম স্বপ্নজাল হঠাৎ ছিন্ন হয়।

সেই অভিনেতার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে চ্ছেদ পড়তেই বেসামাল হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে অভিনেতা বাপ্পী রাজের সঙ্গে পরিচয় হয় মুনিয়ার। পরিচয় থেকে গভীর প্রেম। নিয়মিত মিরপুরের বাসায় একান্তে দেখা হতো তাদের। ওই বাসাতেই শোবিজের অনেকের সঙ্গেই আড্ডায় মেতে উঠতেন তারা। সেখানেই তাদের গ্রুপভিত্তিক নানারকম সম্পর্কের মজাদার সব কাহিনী ছড়িয়ে আছে শোবিজের অন্দরে বাহিরে। জানা যায়, বাপ্পী রাজের সঙ্গে টানা দুই বছর প্রেম ছিল মুনিয়ার। সম্পর্ক থাকা অবস্থায় হঠাৎ অভিনেতা বাপ্পী রাজের কাছ থেকে উধাও হয়ে যায় মুনিয়া। তারপর এক সঙ্গীত শিল্পীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার।
এবার মুনিয়াকে নিয়ে গণমাধ্যমকে বিভিন্ন তথ্য দিল তার সাবেক প্রেমিক অভিনেতা বাপ্পী রাজ। মুনিয়ার সঙ্গে প্রেমের বিষয়ে বাপ্পী রাজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। আমি মন থেকে ওকে পছন্দ করতাম। আমার পুরো পরিবার বিষয়টি জানত। সর্ম্পকের মাঝে হঠাৎ গ্যাপ হয়ে গেল। তারপর মুনিয়া কোথায় যেন হারিয়ে গেল।’ বাপ্পী রাজ আরও বলেন, ‘গত বছর আমি খুলনাতে ছিলাম। এখনও খুলনাতেই আছি। তখন বলেছিল, আমরা বিয়ে করেছি। তারপর চার-পাঁচদিন টানা কথা হয়েছিল আমাদের, ও সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছিল। তারপর আবার রাগ করে ব্লক করে দেয়।

আপনার সাথে কবে নাগাদ সম্পর্ক ছিল? আর মুনিয়া তখন কিসে পড়ত? জানতে চাইলে বাপ্পী আরও বলেন, ‘২০১৭-১৮ সালে, দুই বছর আমাদের সম্পর্ক ছিল। আসলে তো লুকোচুরি লুকোচুরি ভাবেই আমার-ওর বিষয়গুলো শেয়ার করত। ওর বোনের (নুসরাত) সঙ্গেও ফেসবুকে আমার কথা হয়েছে। আগের আইডিটি এখন আর নাই। মুনিয়া তখন মিরপুরে থাকত উল্লেখ করে এ অভিনেতা বলেন, ‘ও বিড়াল পছন্দ করত, আমিও করতাম। এভাবেই একটু একটু করে আমাদের গভীর সম্পর্ক হয়ে গেছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ না বলে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। না পাওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসল। আমি জাস্ট ভুলেই গেছিলাম ওকে। তারপর গত বছর মার্চের দিকে ওর সঙ্গে আমার আবার কথা হয়েছিল। আলাপের এক পর্যায়ে স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠেন বাপ্পী রাজ। তিনি বলেন, ‘মুনিয়া দেখতে অনেক সুন্দর ছিল। আমি মন থেকে ওকে চেয়েচিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে জানতে পারলাম, ওর অনেক ঝামেলা আছে। আমি সেসব ঝামেলায় জড়াতে চাইনি বলে সরে এসেছিলাম।

বাপ্পী রাজ ছাড়াও একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। সে বেশ আড্ডাবাজ ছিল। সব ধরনের আসরেই ওঠাবসা ছিল তার। গুলশানের ওয়েস্টিনে নিয়মিত আড্ডাবাজির কারণে বহুল আলোচিত পাপিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। কিন্তু অতিমাত্রার উচ্চাভিলাষী মুনিয়ার আশপাশে থাকা নিরাপদ মনে করেননি পাপিয়া। তাই পাপিয়া নিজেই সরে যান মুনিয়ার পাশ থেকে। ওই সময় পাপিয়া তার ঘনিষ্ঠজনদের বলতেন, এই মেয়ে (মুনিয়া) বড়ই ভয়ঙ্কর, সে সাপের মুখেও চুমু খায়, ব্যঙের মুখেও চুমু খায়।
পাপিয়ার সে অগ্রিম বার্তাকেও সত্য হিসেবেই প্রমান করে ছেড়েছেন মুনিয়া। সর্বশেষ গুলশানে লক্ষাধিক টাকা মাসিক ভাড়ার ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে তিনি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনবীরের বান্ধবী হিসেবে দাবি করলেও একই সময়ে তিনি আনবীরের ঘোর শত্রু হুইপপুত্র শারুণের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। সর্বশেষ মুহূর্তেও সায়েম সোবহান আনভীরের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় সে সম্পর্কে শারুণের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নিতে মুনিয়া এসএমএস চালাচালি করেছেন। সেসব এসএমএস এর প্রমানাদি এখন পুলিশের হাতে। এর ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই হুইপপুত্র শারুণকে পুলিশ এক দফা জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।

মুনিয়ার বিষয়ে জানতে হুইপপুত্র শারুনকে জিজ্ঞাসা
গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একটি সূত্র তাঁর কাছে কিছু তথ্য জানতে চায়। শারুন সরকারদলীয় হুইপ ও চট্টগ্রামের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। শারুন ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে কথোপকথন কত তারিখের, তা স্পষ্ট নয়। সময় বিকেল পাঁচটা বাজার কিছু আগে। খুদে বার্তার ওই কথোপকথনে মোসারাত মুনিয়া শারুনকে লেখেন, তিনি ভালো নেই। এরপর লেখেন, ‘উনি তো আমাকে বিয়ে করবে না। কী করব আমি?’ জবাবে শারুন লেখেন, ‘আগেই বলেছিলাম, ওর কথা শুইনো না। ও আমার বউকে বলছে বিয়ে করবে, কিন্তু করে নাই। মাঝখানে আমার মেয়েটা মা ছাড়া হয়ে গেছে।’ অবশ্য এই কথোপকথনের কোথাও মুনিয়া বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের নাম উল্লেখ করেননি। ‘উনি’ বলে সম্বোধন করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
© All rights reserved © 2021 Nirjatio News BD
Theme Customized By Theme Park BD